আমার একান্ত কিছু শব্দের মানুষগুলো

আমার একান্ত কিছু অনুভূতি আমার কলমের সাথে ভাব জমায় আমি তাদের সাথে পথ পাড়ি দেই একাকী

Tuesday, September 4, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি - ৭৯

আজ তোমায় একলা রেখে

" তুমি কে ? 
চিনতে পারছি না তো ।" - আমার সরল স্বীকারত্তি। 
'ও' অবাক হলো, 
আবার একই প্রশ্ন করলো,
"সত্যি কি আমায় 

চিনতে পারছো না " ?
এবার আমি
কোন উত্তর দিলাম না।
ফিরে চলে এলাম
আমার পুরানো সেই
একলা চলার পথে।
একবারও পিছু ফিরি নি,
সে বারবার
করুন সুরে ডাকছিল,
সায় দেই নি।
এই ডাকটা
আমি ডেকেছিলাম
ঠিক কয়েকটি বছর আগে,
কিন্তু সায় পাই নি।
আজ তাই তোমায়
মনে রাখি নি,
শুধু মনে রেখেছিলাম
সেই পথ
যেই পথে
তোমার চলে যাওয়া,
আজ আমি
সেই পথে
হেঁটে হেঁটে
তোমায় রেখে ফিরলাম।

(অয়ন আহমেদ)

৩১ই আগষ্ট,২০১২
-------------------------------------------------------------------------------



লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৭৯/৩৬৫

পুরাতন লেখালেখিগুলো http://ayonahmed.blogspot.com/

অ আ আজকের লেখালেখি - ৭৮

অনেকদিন পর ঢাকা আর্ট সেন্টারে গেলাম সেখানে একটা ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী চলছে । খুব ভালো লাগল। খুব ছিমছাম করে সাজানো। ভালো লাগল প্রতিটি বিষয় ভিত্তিক ফটোগ্রাফগুলোকে সাজানো। একটা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যাওয়া ফটোগ্রাফিগুলো দারুন লাগছিল। 

আমি অনেক ফটোগ্রাফির প্রদর্শনী এই ব্যাপারটা খেয়াল করে দে

খি, সব জায়গাতে খেয়াল খুশি মতন ফটোগুলো টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়। বেশ কয়েকবছর আগে কোলকাতাতে একটা ফটোপ্রদর্শনীতে গিয়েছিলাম সেখান থেকে আমি ফটো কিভাবে সাজানো হয় সেই তথ্যটা পেয়েছিলাম কিছু নামীদামী ফটোগ্রাফারের সাথে কথা বলে। আমি অনেক কিছু জানতে তাদেরকে প্রশ্ন করেছিলাম। আমার পিএনএস দেখে ওরা বলেছিল। এটি দিয়ে তুমি অনেক কিছু শিখতে পারবে। তোমাকে আলোর নিয়ে খেলার ব্যাপারটা অনেক শিখতে হবে। আমাকে তাদের কেউ বলে নি এসএলআর ছাড়া ফটোগ্রাফি শেখা যায় না। যেটি আমি আমার দেশে অনেক গ্রুপের নামী দামী ফটোগ্রাফারের মুখে শুনি এবং মুচকি হাসি। ফটোগ্রাফি শিখতে যদি এসএলআর লাগে তাহলে ব্যাপার এমন দাঁড়াবে। গাড়ী চালানো শিখতে অবশ্যই দামী টয়োটা হতে হবে। পুরানো গাড়ী হলে নির্ঘাত খুনী ড্রাইভার হয়ে যাবে।

যাই হোক আসল কথাতে আমার একটা জিনিষ দেখে ভালো লাগল আমাদের সব তরুন ফটোগ্রাফাররা আমাদের বাংলাদেশের আনাচে কানাচে সব জায়গা থেকে খুব সুন্দর মুহূর্তগুলোকে তুলে আনছে। খুবই দারুনভাবে জীবনযাত্রাকে ছবির ভিতরে তুলে ধরছে। প্রতিটি ছবি জীবন্ত, প্রানবন্ত। আমি খুবই মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। আমার খুব গর্ববোধ হয় যখন দেখি আমাদের দেশের ফটোগ্রাফাররা কিন্তু বিশ্বমানের ছবি তুলতে সিদ্ধহস্ত।

এক সময় আমাদের তরুন সমাজের একটা অংশ রাস্তার মোড়ে বিড়ি ফুঁকতো, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হেঁটে যাওয়া মেয়েদেরকে অন্য কোন গ্রহের প্রানী ভেবে তাকিয়ে থাকত, সেখানে তারা আজ ফটোগ্রাফি নিয়ে ব্যস্ত, চর্চা করছে, সুন্দর প্রদশর্নী করছে, আমাদেরকে গর্বিত করছে। তাদের খেলার সঙ্গী হয়ে গেছে তাদের ক্যামেরা। এই সঙ্গী তাদের বিষন্নতাকে দূর করেছে। এরা একদিন অন্যদের মতন বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেখিয়ে দিবে আমরাও পারি। ফটোগ্রাফি পারে আমাদের তরুন সমাজকে উজ্জীবিত করতে, সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে।

৩০ই আগষ্ট,২০১২
-------------------------------------------------------------------------



লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৭৮/৩৬৫

পুরাতন লেখালেখিগুলো http://ayonahmed.blogspot.com/

অ আ আজকের লেখালেখি - ৭৭

বছরের পর বছর দীর্ঘ জ্যামের কারনে প্রতিদিন ঘন্টা দু'য়েক বাড়তি সময় নিয়ে অফিসের যাওয়ার অভ্যাস বেশ ভালো রপ্ত হয়ে গেছে। এজন্য হঠাৎ হঠাৎ ঈদের ছুটি শেষে ঘন্টাখানেক আগে পৌছে যাই, তখন খুব মজা লাগে। অথচ আজ অফিস কারে চেপে অনেক দেরীতে অফিসে ঢুকলাম। অনেকে যারা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাফেরা তা
রা অনেকে লাঞ্চের আগে ঢুকতে পারবেন বলে মনে হয় না। পায়ে হেঁটে কেউ সময় বাঁচিয়ে কিছুটা সময় রক্ষা করে ঢুকতে পারেন। আমাদের অফিস ব্যবস্থাপকের একটু মায়া দয়া থাকার কারনে দেরী হলেও অনুপস্থিত দেখিয়ে আমাদের একদিনের বেতন কাটা হয় না। কিন্তু অন্য অফিসে বেতন কাটার সাথে চাকরীটা চলে যেতে পারে। এজন্য ভুক্তোভূগি আমাদের মতন ছাপোষা চাকুরীজীবিরা। আমাদের একেকটা টাকার মূল্য অনেক বেশী। কারন আমরা নিজের সৎ টাকায় চলি। তাই দেশে টিকে থাকতে নাভিশ্বাস হয় আমাদের।

আজ দেরি হওয়ার কারনটা খুবই স্বাভাবিক। শাহবাগ মোড়ে ঢাকা ভার্সিটির একটা ছেলে বাসের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে। পরবর্তীতে আবেগে টইটুম্বর রক্তগরম সহপাঠিরা এসে বাসটির উপর রাগ ঝাড়লো, যারা অফিস যাত্রী ছিলেন, ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন, অন্যান্য যারা ছিলেন তাঁদের সবাইকে নামিয়ে দেওয়া হল। যারা যাত্রী ছিলেন তাদের গন্তব্যে পৌছানোর ব্যাপারে সেই ভাঙচুর করার কাজে ব্যস্ত সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষিত ছাত্রদের মাথায় ছিল না। তাই তারা আগুন জ্বালানোর জন্যে ব্যস্ত ছিল। তারপর মুহূর্তের ভিতর সংবাদ পত্রের সাংবাদিকদের পুরানো অভ্যাস অনুযায়ী বাসের নাম দেওয়া হল ঘাতক বাস এবং একটা নিরীহ ছাত্র মরে গেল সঙ্গে সঙ্গে নিহত মেধাবী ছাত্র হয়ে গেল। একদল পুলিশ সুন্দর মতন বাস ভাঙ্গা দৃশ্য দেখা শেষে বাস ড্রাইভারকে কাছে পেয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে থানায় চলে গেল। শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠের পড়ুয়া ছাত্ররা খুবই আনন্দের সাথে ভাঙ্গাভাঙ্গি ও অগ্নি সংযোগ উৎসবে যোগ দেয়। পথচারীরা আতঙ্ক নিয়ে ভীড় করে দেখল। ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় মূল প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে প্রচন্ড ভিড় বেড়ে যায়, জ্যাম লেগে যায়। সেই রাস্তাতে গাড়ীতে আটকে থাকা মানুষগুলো আতন্কিত হয়ে পড়ে।

শাহবাগে মোড়টা কোনদিন আতঙ্কের ছিল না । আমাদের দেশের মানুষের যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়ার অভ্যাসটার কারনে এই রাস্তাটাকে মরন ফাঁদ নামকরন করেছে পত্র-পত্রিকাগুলো। আমাদের দেশের সকল পুলিশ ভাইদেরকে রাখা হয়েছে বিআরটিএর অফিসার হিসেবে। তারা রোজ রোজ গাড়ী ধরছে, হোন্ডা ধরছে, কিন্তু ফিটনেসহীন পাবলিক বাস ধরছে না। ধরে রাখা যানবাহনগুলো যদি কাগজ না পায় তখন খুশী আত্মহারা হয়ে যাচ্ছে কেননা আইনের বাইরে অন্যন্যা ফাইনের সুযোগ হয়ে যাচ্ছে। তখন সরাসারি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে সরকারকে ফাইন দিবেন নাকি আমাকে। ফাইন কিন্তু ১,০০০ টাকা সরকারকে দিতে হবে, আর শুধু আমাকে দিলে ৫০% মওকুফ মাত্র ৫০০ টাকা। আর যাদের কাগজপত্র ঠিক থাকে তাদের দেখে করুন হাসি দিয়ে ছেড়ে দেয়। আমাদের এশিয়া মহাদেশে শুধু বাংলাদেশের পুলিশ বিআরটিএ কর্মকর্তার কাজ করছে গনহারে, প্রতিটি গাড়ীতে ফিটনেস স্টীকার লাগানো থাকা সত্ত্বে গাড়ীর কাগজ পত্র চেক করছে। অথচ এই পুলিশগুলো কাজ হওয়া উচিত ছিল। রাস্তায় কেউ নিয়ম ভাঙছে কিনা। সব কিছু ঠিক মতন চলছে কিনা। সেগুলো প্রতি নজর রাখা। পথচারীকে রাস্তা পারাপারে সহায়তা করা। গাড়ীকে সঠিকভাবে চলা জন্যে ডারেক্টশন দেওয়া।

সবশেষে একটাই কথা, পরিবর্তনটা আমাদের নিজেদের হওয়া দরকার। একটু কষ্ট করে ওভারব্রিজে উঠার অভ্যাস করতে হবে। ফুটপাথ ব্যবহার করতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার সময় ডানে-বায়ে দেখে নিতে হবে। জ্রেবা ক্রসিং দিয়ে পার হওয়ার অভ্যাস করতে হবে। মনে রাখা জরুরী যত্রতত্রভাবে হাঁটাচলা নিজের ভিতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যার ফলাফল আরেকটা দুঘর্টনা। আমাদের সবার জীবনের মূল্য অনেক বেশী।

২৯ই আগষ্ট,২০১২
-------------------------------------------------------------------------------



লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৭৭/৩৬৫

পুরাতন লেখালেখিগুলো http://ayonahmed.blogspot.com/

অ আ আজকের লেখালেখি - ৭৬

জানালা কিন্তু খোলা নয়

একটা মেয়ে 
কুড়ির শুরুতে
ঢুকেছিল অন্ধকারে,
আজ সে 
ত্রিশে পা রাখা
ভীত সন্ত্রস্ত নারী।


অন্ধকারে ঢুকেছে
বিষন্নতাকে
নিঃস্বার্থ ভালবেসে।
মোমবাতির ছোট আলোকে
দীর্ঘ লম্বা রাতও
খুব ভয় পায়,
মোমবাতির আলোরাও
‌‍"রাত্রি" নামের
সেই নারীকে
ভয় দেখাতে জানে।

ঘরের বাইরে বৃষ্টির শব্দ
শোনা যায়
আর
ভেজা মাটির গন্ধ
হাওয়ায় ভাসে,
ভিতরে চোখের জলের
শব্দ শোনে না কেউ
সেই পুরানো কথা
কি কেউ মনে রাখে?

যখন শেষ সম্বল
মা নামের
মানুষটা চলে যায়
শেষ ভালো স্বপ্নটাকে নিয়ে
তখন
সেই খোলা জানালার
মেয়েটা হারিয়ে যায়
অতল অন্ধকারে
এবং সেই জানালা
আজ বন্ধ
কে জানে আদৌ
খুলবে কিনা।

তাকে ভালবেসে,
অনেকে উঁকি দেয়
জানালা ফুটো দিয়ে
ভিতরে
শুধু গাঢ় অন্ধকার।
অবিরাম টোকা শেষে
হতাশে কেউবা
গোলাপ রেখে আসে,
বাসি গোলাপের কাছে।

আজকের জীবনটা
অগোছানো,
গতকালের মতন
নয়
পরিপাটি।
তবুও জীবন
অন্ধকারে,
আজও
জানালা কিন্তু খোলা নয়।

২৮ই আগষ্ট,২০১২
------------------------------------------------------------------------------------



লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৭৬/৩৬৫

পুরাতন লেখালেখিগুলো http://ayonahmed.blogspot.com/

অ আ আজকের লেখালেখি - ৭৫

ইউটিউবের কল্যানে আজ অনেক পুরানো বাংলা গান, নাটক এবং সিনেমা দেখতে পারি। অসংখ্য বিদেশী চ্যানেলগুলোর ভিড়ে দেশী চ্যানেলগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। দোষ আমাদের, আমরা খুব বেশী বেশী বিদেশী সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট । অথচ আমাদের দেশে ভালো নাটক হচ্ছে, গান হচ্ছে, সিনেমা হচ্ছে। আ
মরা দেখছি না। হয়ত সময় পাচ্ছি না দেখার। আমি টিভি দেখার সময় কম পাই বলে, ইউটিউবে বেশীরভাগ অনুষ্ঠান দেখার চেষ্টা করি।

গতকাল হাসির কোন নাটক খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ একটা নামে আমার চোখ আটকে গেল, "কমন জেন্ডার"। আমার কাছে নাটকের শিরোনাম খুব হাস্যকর মনে হয়েছিল বিধায় পুরো নাটক সময় নিয়ে দেখলাম। নাটকটি মূলত লেখা হয়েছে হিজড়াদের জীবন কাহিনী নিয়ে। শৈশবের একটা বড় অংশ পার করেছি গোপিবাগে। আমাদের আশেপাশে অনেক হিন্দু পরিবার বসবাস করত। ওদের বাড়ীতে প্রায়ই অনুষ্ঠানগুলোতে হিজড়ারা নাচত। আমরা ছোট ছিলাম বলে সে সব নাচ দেখার অনুমতি পেতাম না। তখন ঠিক বুঝতে পারতাম না কেন দেখতে দেওয়া হবে না । আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল বলে স্বাভাবিকভাবে আমাদের কৌতুহল অনেক বেশী ছিল। তাই আমরা মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম, আমি মনে আছে ওরা খুব অদ্ভূতভাবে নাচত, ওদের কখনো আঁচল থাকত না, আশেপাশের সব দর্শকরা ওদের তালি দিয়ে উৎসাহ যোগাত। আমরা নিজেরাই লজ্জা পেয়ে চলে আসতাম। সেই থেকে হিজড়া সম্পর্কে খুব একটা ভালো কিছু ধারনা আমাদের নেই। আমাদের সমাজের কাছে হিজড়া মানে অসভ্য বেহায়া চাঁদাবাজ। আমাদের অনেক বন্ধু আছে যাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওরা প্রায়ই হানা দিত। আমার বন্ধুরা ওদের নিয়ে খুব আতঙ্কে থাকত। আমি প্রায়ই মগবাজারের সিগন্যালে হিজড়াদের অপেক্ষা করতে দেখি। ওরা প্রায়ই গাড়ীর যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে।

আমি 'কমন জেন্ডার' নাটকটি দেখে হিজড়া সম্পর্কে কিছু ধারনা পেলাম যা সত্যি আগে কখনো ভেবে দেখি নি। মোটামোটি খুব সহজ একটা সমীকরন পেয়ে গেলাম এই সম্পর্কে । একটা মা একটা বাচ্চাকে নয় মাস গর্ভে রেখে প্রচন্ড প্রসব বেদনা শেষে জন্ম দিল। বাবা গর্বিত , সমাজ গর্বিত একটা পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে । অতঃপর মিষ্টি বিলানো। ছেলেটা সব সাধারন বাচ্চার মতন বড় হতে থাকে। অতঃপর বয়স চার পাচেক পরে মা বাবা যখন তাকে বাইরের ছেলেদের সাথে খেলতে পাঠায় তখন সে যেতে চায় না, লজ্জা পায়, ভয় পায়। সে তখন বাসা বারান্দার কোনাতে বসে পুতুল নিয়ে খেলতে বসে। তার কখনো গাড়ী নিয়ে খেলতে ভালো লাগে না, প্লেন নিয়ে উড়তে ইচ্ছে করে না। একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে মায়ের নেইলপলিস, লিপস্টিক, কাজলের প্রতি তীব্র আকর্ষন বাড়ে। মায়ের চোখে ছেলে-মেয়ে সমান বলে এ নিয়ে মা কখনো গা করেন না। শুধু বাবার বিরক্ত বাড়ে। বাবা মাঝে মাঝে বকাঝোকা করেন। ছেলেটা তখন ফুঁপিয়ে কাঁদে, এক সময় ছেলেটি বড় হয়, সে অনুভব করে সে অন্য কোন মানুষ, শারীরিকভাবে সে পুরুষ হলেও মনটা মেয়েদের মতন হয়ে বেড়ে উঠছে। তার অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষনবোধ করে কিন্তু মেয়েদেরকে দেখলে অহংকার হয়। বন্ধু ভাবতে পারে না। কৈশোরে পা রেখে মেয়েদের কাপড়, কসমেটিকসের প্রতি তীব্র ঝোঁক জন্মায়। সমাজ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে, ফিসফিস করে। অপমানে তাই বাবা-ভাই তাকে সহ্য করতে পারে না। একসময় অল্প বয়সে তাকে বাড়ী থেকে মারতে মারতে বের করে দেয় । শুধু মা তাকে ভালবেসে নিরবে চোখের পানি ফেলে আর বারান্দা দিয়ে দেখে তার ছেলে মিলিয়ে যাওয়ার করুন দৃশ্য। ছেলেটা ফিরে তাকাতে সাহস পায় না আবার মার খাবে বলে। এ সমাজ তাকে থুতু দেয়। একসময় তাকে খুঁজে পায় এক বয়স্ক পুরুষ হিজড়া সবাই তাকে খালা ডাকে। সেই একসময় তাকে আশ্রয় দেয়, খাবার দেয়। সেই ছেলেটি সেই খালাকে ভালবেসে বড় হতে থাকে। সেই কোথাও চাকরী পায় না, সম্মান পায় না। তখন চুরি করতে শিখে, লুট করতে শিখে, চাঁদাবাজী করে নিজেদের বেঁচে থাকার চাহিদায়। একসময় তারা মরে যায় ।
আমাদের সরকার তাদেরকে নিয়ে কোন পুর্নবাসন চিন্তা করে না বলে এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। মাঝে মাঝে বিদেশী এনজিওগুলো তাদের নিয়ে নতুন নতুন প্রজেক্ট করে, অল্প স্বল্প ভালো থাকে তখন। কখনো সখনো ধনী দেশগুলো তাদেরকে উভয়ই লিঙ্গ দাবী করে আন্দোলন করে। কিন্তু শেষমেষ তারা আমাদের সমাজের লাঠি পেটা খেয়ে পোকা মাকড়ের মতন পিষ্ট হয়ে মারা পড়ে।

২৭ই আগষ্ট, ২০১২
-------------------------------------------------------------------------------



লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৭৫/৩৬৫

পুরাতন লেখালেখিগুলো http://ayonahmed.blogspot.com/

অ আ আজকের লেখালেখি - ৭৪

আমি সব সময় নতুন কিছু লেখার ভাবনাতে থাকি। কখনো সখনো সেই পুরানো ভালবাসার গল্প, বিচ্ছেদের কাব্য ভাবনা থেকে দূরে চলে যাই। 
আমি আমার বাংলার শিকড়টাকে মজবুত করতে প্রায়ই আমাদের নাটক, আমাদের গান, আমাদের সংস্কৃতিটাকে চুলচেরা বিশ্লেষন করার চেষ্টা করি। কোন সময়

 খুব মুগ্ধ ভালো কিছু দেখে, কখনো খুব কষ্ট পাই খারাপ কিছু দেখে। আশির নব্বই দশকে আতাউর রহমান, চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ আরো অনেকে আমাদের চলচিত্র শিল্পটাকে দারুন একটা অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। তখনকার বাংলা ছায়াছবির ভিতর মুগ্ধ করার মতন চিন্তা ধারা ছিল। রাজ্জাক-শাবানা-ববিতা-কবরী সবাই মিলে একটা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল। তখনকার আমাদের বাঙ্গালী সমাজ প্রতিটি নতুন সিনেমার জন্যে অপেক্ষা করত। প্রতিটি সিনেমা হল গিজগিজ করত। একটা সময় হাউসফুল সাইনবোর্ড ঝুলত। কিন্তু ঠিক বিশ বছর পর আজকের সিনেমা হলে হাউসফুল সাইনবোর্ডটা না ঝুলতে ঝুলতে মাকড়সার জাল । বাংলা চলচ্চিত্রটাকে যা ইচ্ছে তা বানিয়েছে আমাদের সেন্সর বোর্ড তারা যদি ছবির মান সম্পর্কে সুস্পষ্ট নীতিমালা দিয়ে নিয়ন্ত্রন করত তাহলে কখনোই আমাদের চলচ্চিত্রে এই হাল হত না। আমাদের পাশের দেশ ভারত আজ চলচ্চিত্রে অবস্থানের দিক থেকে আমাদের অনেক উপরে। এই অবস্থান নব্বই দশকের পরের কাহিনী। অথচ আমরা একটা সময় তাদের সমকক্ষ ছিলাম। তাদের আজকের চলচ্চিত্রের কারনে ভালো আধুনিক গান হচ্ছে সেই গানকে ঘিরে গানের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। অনেক ভালো মানের নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা বেরিয়ে আসছে। ভারতের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষিত সিনেমা ডারেক্টর তৈরী হচ্ছে। তারা একসময় ভালো ছবি প্রস্তত করছে। অথচ আমাদের দেশে ভালো ছবি হচ্ছে, আমরা সবাই দেখচি না। কারন আমরা বাংলা ভাষাকে হারিয়ে ফেলছি। আমরা আজ খুব সহজে হিন্দি বুঝে ফেলি কিন্তু নিজের ভাষা বাংলা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা বাংলা গান শুনে বোর হচ্ছি অথচ হিন্দি গান শুনে শরীর দুলছি। এইভাবে চলতে চলতে হয়ত একদিন আমাদের এই বাংলা ভাষাটা বিলুপ্ত কোন ভাষাতে চলে যাবে। আমরা বুড়ো বয়সে আফসোস করব আর বলবো, "আমরা একসময় বাংলায় কথা বলতাম, আজ আমাদের কথা বোঝার কেউ নেই"।

২৬ই আগষ্ট, ২০১২
-------------------------------------------------------------------------------



লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৭৪/৩৬৫

পুরাতন লেখালেখিগুলো http://ayonahmed.blogspot.com/

অ আ আজকের লেখালেখি - ৭৩

আজ আদ্বিয়ানের দশ মাস বয়স। খুব ভালো লাগছে ছেলেটা চোখের সামনে হু হু করে বড় হয়ে যাচ্ছে। এর ভিতর রপ্ত করে নিয়েছে হামাগুড়ি দিয়ে সারাটা বাড়ী চক্কর দেওয়া। সবচেয়ে বড় যে বিষয়, একটা পরিবেশকে ও খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করে এবং একটা অপরিচিত মুখকে অনেকক্ষন ধরে দ
েখে তারপর হাসি দিয়ে আপন করে নেয়। নতুন কাউকে দেখে ওর ভিতর কোন জড়তা কাজ করে না। দারুন ভাবে আপন করে নেয়, এই সহজাত গুণ একমাত্র আমার নানুর ভিতর ছিল। অচেনা, অজানা কাউকে আপন করে নেওয়া। আমি নিজেও জড়তায় জড়িয়ে যাই। আপন কনি তবে সেটা খুবই দেরীতে। আমি আসলে অনেক বেশী আত্মকেন্দ্রিক, আমার সমস্ত ভাবনা একটা ছোট্ট গন্ডির ভিতর। আমার সব কিছু সীমিত, বন্ধুমহল, আত্মীয়মহল, সুহৃদমহল সবাই কেবল হাতে গোনার ভিতরে।

আমার মনের রাখার ক্ষমতা বরাবরের মতন খুবই করুণ। খুব দ্রুত ভুলে যাই, অনেক কিছু, তাই চশমা খুঁজে পাই না, গাড়ীর চাবি হারাই প্রায়ই, নিজের লেখার একটা কবিতাও পুরাপুরি মনে করতে পারি না, ভুলে যাই কারোর বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা, এজন্য আমাকে যারা খুব ভালবাসে তারা আমার এই পাগলামীপনাকে মেনে নিয়ে বারবার ফোন দিয়ে তাদের অনুষ্ঠানের কথা মনে করিয়ে দেয়। শুধু তাদের ভালবাসার টানে ছুটে যাই।

২৫ই আগষ্ট, ২০১২
-------------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৭৩/৩৬৫

(ব্যাক্তিগত কারনে ব্যস্ততার জন্যে বিলম্বিত হল। সেজন্য দুঃখিত।)

পুরাতন লেখালেখিগুলো http://ayonahmed.blogspot.com/