আমার একান্ত কিছু শব্দের মানুষগুলো

আমার একান্ত কিছু অনুভূতি আমার কলমের সাথে ভাব জমায় আমি তাদের সাথে পথ পাড়ি দেই একাকী

Tuesday, July 31, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি- ৪৭

স্বচ্ছ চোখের জল

প্রথম দিকে স্বপ্নেরা রং খেলায় মত্ত,
চারধারে অনেক কিছু উড়ে 
শুধু সাদা কিছু ব্যতীত ।
লাল নীল বেগুনী সবুজ ,
সবাই একই সাজে উড়ে ঘুরে।
সাদামাটা স্বপ্নের আকাশটাতেও,
এত রং নীলেরাও অবাক চেয়ে রয় ।
ছোট ছোট মেঘমালা
হেসে হেসে ভাসে,
কিন্তু সামান্যটুকু সংশয়ে।
যখনই ভুল কিছু উড়ে ,
কিছু রাগ কিছু ক্ষোভ
অভিমান হুট করে।
কালো মেঘেরা পসরা সাজায়,
আমি হারাই ছোট বড় রঙীন স্বপ্ন,
পথ হারাই ঘর হারাই।
কালো মেঘের ঝাপটা ঝড়ে,
বৃষ্টির ডাক বাড়ে
ঝমঝম ঝমঝম,
আমি পালিয়ে বেড়ায়ই
কান্নার জলে ভিজে যাওয়ার ভয়ে,
অতঃপর ভিজে যাই।
ভিজে যায় সাদা রঙের মনটা,
তবে বৃষ্টির জলে নয়
কেবল স্বচ্ছ চোখের জলে।

৩১ জুলাই, ২০১২
-----------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৪৭/৩৬৫


পুরাতন লেখালেখিগুলো http://ayonahmed.blogspot.com/

Monday, July 30, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি- ৪৬


আমি আগামী একটা সময় এমন একটা জায়গাতে গিয়ে দাঁড়াবো, হয়ত কাউকে পাব না কাছে, হয়ত কাউকে চিনবো না। স্মৃতিভংশ আমাকে ভোগাবে দীর্ঘদিন। আমি হয়ত আমার প্রিয় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের "ছবি আঁকে , ছিঁড়ে ফ্যালে" কবিতার মতন কেউ একজন হয়ে যাব। 


ছবি আঁকে, ছিঁড়ে ফ্যালে


বহুবার হারিয়েছে ব'লে আজ কেউ
লোকটিকে খোঁজে না আর, সুতো ছাড়তে থাকে।
যতো দূর যেতে চায়, যাক, বেঁচে থাক।
অমৃত্যু মাথার 'পরে মুকুট দিয়েছে-
অনেকেই চেনে তাকে, অনেকে চেনে না।
বোঝে কিছু, বোঝে মিছু কোনো কোনো লোকে,
কিছুই লাগে-না-ভালো এমন অসুখে
লোকটি উচ্ছন্ন আজ, বেঁচে-বর্তে আছে
কোনো মতে। বেঁচে থাক, দুঃখী হয়ে থাক।
কিন্তু, কী যে দুঃখ তার নিজেই জানে না,
লোকটি কবি, ছবি আঁকে, ছিঁড়ে ফেলে দেয় !


(শক্তি চট্টোপাধ্যায়) 


৩০ জুলাই, ২০১২
--------------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৪৬/৩৬৫


পুরাতন লেখালেখিগুলো

Sunday, July 29, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি- ৪৫

আমার http://ayonahmed.blogspot.com/2012/07/blog-pos_2882.html বিগত লেখাতে  আমি সমীকরন দুইয়ে বিশ বছর পর্যন্ত কিছু ঊল্লেখযোগ্য অংশ বিশেষ লিখেছিলাম। বিশ বছর পরবর্তীতে শুরু করলাম।


সমীকরন : ৩ (২১ বছর - ৩০ বছর)


এই সময়টা আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গ্রাজুয়েশন শেষ করে অনন্ত বেকার সময়। অসংখ্য জায়গাতে জমা দেওয়া শয়ে শয়ে সিভির বিপরীতে গড়ে পাঁচ-ছয়টা ইন্টারভিউ। নিজের ভিতর প্রচন্ড ইগো ছিল বলে , ইগো আমাকে পেছনের দরজা দিয়ে উপরের উঠা সিঁড়িতে তাকাতে দেয় নি। যেটিকে বলে হোল্ড কিংবা ব্যাক আপ। আমি কথা ছিল কষ্ট করে কিছু পেলে সেটার মর্যাদা দেওয়া যায়। ফলশ্রুতিতে যা হলো, আমার চাকরী হলো না কোথাও। অনেক জায়গাতে চাকরীর শুরুতে এমবিএ চাওয়া হচ্ছিলো এমনকি এক্সিকিউটিভ পোষ্টে যদি এক্সপেরিন্স লোক খোঁজে তাহলে আমাদের মতন ছাপোষা নতুন গ্রাজুয়েশনের তকমা লাগানো হতভাগাদের স্থান পার্কে বসে বাদাম চিবানোর মতন। চাকরী পেলাম না কোথাও। গ্রাজুয়েশনের আগেই কম্পিউটারটাকে আয়ত্বে এনে ফেলেছিলাম বলে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর মতন টুকটাক কাজ করেছিলাম। টুকটুক করে খেলার ছলে শিখে ফেললাম, ওয়েব ডিজাইনের কলা কৌশলগুলো । এই বিষয়ে নিউ হরাইজনে কোর্সও করলাম। মনে খায়েশ মিটালাম। সেই সার্টিফিকেটেও কোন চাকরী হলো না। শেষমেষ মাষ্টার্স করলাম এবং এম.বি.এ করলাম। তখন চাকরীর গন্ধ পেলাম। ব্যাংকগুলোতে ঢু মারলাম। এসি খেলাম ইন্টারভিউ দিলাম। সবশেষে রেজাল্ট একটাই চাকরী হলো না। জানিয়ে দেওয়া হল, ওমুক পোষ্টের জন্যে আরো অধিক শ্রেয়তর ডিগ্রী লাগবে। শেষমেষ একদিন ভাগ্য খুললো একটা ব্যাংককে চাকুরী পেলাম, চুক্তি ছিল ২ বছর কোথাও যেতে পারব না, ঢাকা পোষ্টিং হবে না। সব ক্ষেত্রে রাজী ছিলাম। হঠাৎ বাবার কোম্পানীতে ধস নামল অন্য সব ডারেক্টররা নিজেরাই কোম্পানী খুলে বসলো। বাবার কথা নিজের শখের ব্যাংকের চাকরীর সুযোগটা ছেড়ে দিয়ে হাল ধরলাম। বাবা আমি মিলে ভাঙ্গা ঘর গোছানো শুরু করলাম। অবশেষে আবার দাঁড়িয়ে গেল। আমার স্থায়ী ঠিকানা আজও সেখানে। পরবর্তীতে বিয়ে করলাম। বাউন্ডুলে জীবন থেকে ছক বাঁধা জীবনে ঢুকে গেলাম। এখনও সেভাবে আছি। অগোছানো জীবন থেকে গোছানো জীবন।     


২৯ জুলাই, ২০১২
---------------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৪৫/৩৬৫

Saturday, July 28, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি- ৪৪


আজ হঠাৎ মতিঝিলের অলিগলির ভিতর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে দেখি , একটা পুরানো বইয়ের দোকান। আগে কখনো খেয়াল করি নি। সেখানে অনেকগুলো পুরানো বই, পুরানো মলাট খাতা। কিছু অংকের খাতা। আমি হঠাৎ পুরানো স্মৃতিতে ফিরে গেলাম। আমাদের কাছে নতুন উৎসব ছিল নতুন বই নতুন খাতা। আমরা প্রতি বছর নভেম্বরে ফাইনাল পরীক্ষা দিতাম যেটি শেষ হত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে। দশ থেকে পনের দিন ছুটি থাকত। ডিসেম্বরের ভিতর রেজাল্ট হত। রেজাল্ট বের হবার পর আমি মহানান্দে বাবার সাথে যেতাম নতুন বই কিনতে, নতুন খাতা কিনতে এবং গণিত অনুশীলনীর জন্যে নিউজপ্রিন্ট কাগজ। যেদিন নতুন বই কিনতাম, সারা ঘরে নতুন মৌ মৌ গন্ধ ভরে যেত। আমি মহা উৎসাহে বিগত বছরের পুরানো ক্যালেন্ডার কেটে নিজ হাতে মলাট করতাম। আমার বইগুলো এমনভাবে রাখতাম, মনে হত কাল মাত্র কিনলাম। আমি বইয়ের প্রতি এতই যত্নশীল ছিলাম একটা বই ছিড়ে গেলে আমার চোখে পানি চলে আসত। আমি প্রতিদিন বিকালে বসে নিজউপ্রিন্ট কাগজ সিলাই করে নাইলনের সুতা দিয়ে বাঁধাই করতাম তারপর শক্ত কাগজে মলাট করতাম। মলাট শেষে নিজের নতুন রোল নিজের নতুন শ্রেণীর নাম, সেকশানের নাম বড় করে একটা ক্যালেন্ডারের সাদা অংশতে লিখে খাতায় আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতাম। তারপর বইগুলোর ধরে বুকে জড়িয়ে রাখতাম, ঠিক নিজের সন্তানের মতন।

২৮ জুলাই, ২০১২
--------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৪৪/৩৬৫

Friday, July 27, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি- ৪৩

 ২৭ই জুলাই ২০০৭ থেকে গুনে গুনে ঠিক পাঁচটি বছর পার করলাম দাম্পত্য জীবনের। আমি জানি আমি কোনদিন পারফেক্ট স্বামী হতে পারি নি। স্ত্রী হিসাবে ইরা যতটুকু সাধ্য করেছে এবং করছে। সে হিসাবে আমার অবদান অতি নগন্য। আমার এই অনমনস্ক, হাভোলা বাজে স্বভাবটাকে মেনে নিয়ে এত দিন ধরে ইরা আমাকে সামলে রাখছে সেটি আমাকে অবাক করেছে। হয়ত চোখের জলে অনেক কিছু কষ্ট সামলেছে। আমি মানুষটা পুরোপুরি গোয়ার জেদি। আমার এ স্বভাবটা বদলাতে পারে নি আমার বাবা-মা। আর ও এখনও চেষ্টায় আছে যদি সামান্যটুকু বদলাই।

২৭ জুলাই, ২০১২
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৪৩/৩৬৫

Wednesday, July 25, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি- ৪২




গতকাল দুটো সমীকরণ লিখব ভেবেছিলাম কিন্তু সময়ের অভাবে শুরু করে শেষ করতে পারি নি। প্রথমটা গতকাল লিখেছিলাম আজ দ্বিতীয়টা লিখালাম।


সমীকরণ ২: (আমার বয়স ১১ থেকে ২০ বছরে)


১১ - ১৫ বছর


অস্টম শ্রেনীতে স্কুল থেকে প্রথম বারের মতন ঢাকার বাইরে একা যাওয়া ছিল আমার জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। বাস ভর্তি চেনামুখ আর মাইকিং করে গান, হৈ  চৈ দারুন লেগেছিল। 


আমার শিক্ষাজীবনে অন্যতম সেরা অধ্যায় আমার প্রিয় গণিত স্যার আতিক স্যারের বাসায়। আমি পেলাম আমার প্রিয় কিছু বন্ধু আবীর, পারভেজ, সুরভী, অনু, ঝর্না, শিল্পী, নিশি । আমরা খুব মজা করে গণিত শিখতাম। আমাদের আড্ডাবাজি হত খুব। ভোরবেলাতে আমরা চলে যেতাম স্যারের কাছে। সারাবেলা ভর গণিত করে ফিরতাম। 


এই সময়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিনগুলো ছিল আমার প্রথম কবিতা "বিদায়ের বেলা" স্থান পেয়েছিল স্কুল ম্যাগজিনে। আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছিল। আমাদের শেষবারের মতন স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এই কবিতা আমার চোখে পানি নিয়ে এসেছিল। দশম শ্রেনীর শেষ দিনটি আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। টানা পাঁচটা বছর এক সাথে পড়ে অনেকের সাথে বিদায় নেওয়াটা খুব কষ্টকর ছিল। আমি হারালাম অনেক স্কুল বাবু, আমজাদ, রাসেল, জুয়েল, মিঠু আরো অনেককে, সেই হারানো বন্ধুদের আজ খুঁজে পাই নি।


জীবনের প্রথম কোন বড় পরীক্ষাতে উত্তীর্ন হলাম। মাধ্যমিক পরীক্ষা যতটা কঠিন ছিল তার দ্বিগূন কষ্ট হয়েছে কলেজ ভর্তি পরীক্ষার অনুশীলনে।  আমরা প্রিয় চার বন্ধু মিলে শ্রীমঙ্গল ঘুরতে গেলাম। ফিরে জন্ডিসে ভুগলাম। কলেজ ভর্তি পরীক্ষা আমার জন্যে অনেক কঠিন হয়ে গেল। তবুও মনের জোরে টিকে গেলাম। সিটি কলেজে নিজের নতুন ঠিকানা পেলাম।


১৬-২০ বছর


আমাকে কেউ যদি বলে তোমার জীবনে সবচেয়ে কঠিন শিক্ষাজীবন ছিল কোনটি, আমি নির্দ্বিধায় বলে দিব, "উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা"। মাত্র ১৫ মাস সময়ের ভিতর পাহাড়সম সিলেবাস শেষ করা ছিল সত্যি খুবই দুরূহ ব্যাপার। কলেজ জীবন ছিল খুবই আনন্দপূর্ণ। 
আমরা সবাই বাণিজ্য বিভাগে ডি সেকশনে পড়তাম। আমার স্কুলের ১৯ জন মিলে একসাথে ভর্তি হয়েছিলাম। উৎরিয়ে গেলাম কঠিনতম পরীক্ষা থেকে।


ভর্তি হলাম অর্নাসে কমার্স কলেজে। পার করলাম বিরুক্তিকর সেশনজট। আমি আমার প্রিয় বন্ধু জুয়েলকে হারালাম। ও তুরাগ নদীর পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল। এখনও ওর মুখ ভাসে। ও কোনদিন জানতে পারবে না ও পরীক্ষাতে খুব ভালো করেছিল।

২৬ জুলাই, ২০১২
--------------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৪২/৩৬৫

অ আ আজকের লেখালেখি- ৪১


আমাদের প্রত্যেকের জীবনের শুরু গল্পটা একটা সহজ সমীকরণে চলতে থাকে। যেমনটা আমাদের শৈশব আমাদের ভিতর একটা সহজ পথ তৈরী করে দিয়েছিল, যে পথ ধরে আমরা শেষ করেছি শিক্ষাজীবন, শৈশবের খেলাধূলা। আমরা যদি একটু পিছু ফিরে তাকাই আমরা খুঁজে পাব আমাদের আনন্দ, আমাদের দীর্ঘশ্বাস বাড়বে হয়ত, "ইস! আবার যদি ফিরে পেতাম সেই দিনগুলি"। আমাদের জীবনটা যদি সমীরকরণে ফেলে দেই তাহলে আমরা খুঁজে পাব আমাদের দিনগুলো। যেমনটি আমি খুঁজে পেয়েছি চারটি সমীকরণে আমার জীবনের গল্প। আজ শুধু দুটো সমীকরনে বাকীগুলো কাল।


সমীকরণ ১: (আমার বয়স ১ থেকে ১০ বছরে)
১ - ৪ বছর
এই সময় আমার প্রিয় বন্ধু ছিল। আমার দাদু। যার ঘরে আমি সারাক্ষন খেলা করতাম। দাদু জায়নামাজে আমি শুয়ে পড়তাম। দেখতাম কি দাদু নামায পড়েন। দাদু রোজ মাগরিবের নামায শেষে আমার জন্যে মিষ্টি নিয়ে আসতেন। 


মা তখন ঢাকা ভাসিটির ছাত্রী। বাবা তখন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে সার্ভিস ইঞ্জিনয়র ছিলেন। রোজ সকালে আমাকে বাবা-মা খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে চলে যেতেন। দাদু আমাকে দেখে রাখতেন। বেলা বাড়তে মা চলে আসতেন। ছেলে দুশ্চিন্তাতে মা কোন সময় সব ক্লাস করতে পারতেন না। আমার জ্বর আসত মাকে দেখতাম আমার কাছে বই নিয়ে পড়ছেন। খুব অবাক ব্যাপার ছিল আমার শরীর খারাপ হত, মার প্রতিটি পরীক্ষার আগেই। আমি একসময় স্কুলে ভর্তি হলাম  আমার প্রথম স্কুলে নাম ছিল ফুল কুঁড়ি। যেখানে আমি প্রথম বন্ধু হিসাবে পেলাম আবীর, জিয়া, ফয়সাল , ঝর্না, সোমা আরো অনেককে।


চাকরীসূত্র আমার নানা বাড়ী ছিল কুমিল্লা শহরে। যেখানে আমার মায়ের শৈশবজীবন।
আমরা প্রায়ই সেখানে যেতাম যখনই বাবা ছুটি পেতেন। আমরা খালাত ভাইবোনরা মিলে খুব আনন্দ করতাম। আপিন আমাকে আদর করে খাইয়ে দিতেন। আমি পোলাও পাগল ছিলাম বলে আমার জন্যে রোজ পোলাও রান্না করতেন।

৫-১০ বছর
আমি এই সময় আমার দাদুকে হারালাম। দাদুকে কবর দিতে যেতে দেখতে পারি নি খুব ছোট ছিলাম বলে। বাবাকে কোনদিন সেদিনের মতন দুমরে পড়তে দেখি নি। প্রথমবার বাবাকে ভেঙ্গে পড়তে দেখে আমিও খুব মন খারাপ করেছিলাম। দাদু প্রায়ই চট্টগ্রাম গিয়ে থাকতেন বড় ফুপুর দারুল ফজল বাসাতে। উনি মারা গেলেন সেখানে। দাদু কবর দিয়ে আসা হল মোহরাতে। আমাকে বলা হয়েছিল দাদু বেড়াতে গিয়েছিয়েন ফিরবে যে কোনদিন। আমার অপেক্ষার পালা আরম্ভ হল। দাদুকে চিঠি লিখতাম পেনসিল দিয়ে একটা কাগজে। একটাই কথা থাকত, দাদু তুমি কোথায়? বাড়ী ফিরবে কবে? রোজ বাবা অফিস যাওয়ার পথে বাবাকে সেই কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলতাম আমার চিঠিটা দাদুর কাছে পাঠিয়ে দিও। বাবা চুপ করে থাকতেন। মা আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতেন। 


আমরা শ্যামলীতে চলে গেলাম। সেখানে শুরু হল আমাদের নতুন জীবন। নতুন বন্ধু বিপুল। আমি আবার নতুন স্কুলে ভর্তি হলাম। আমার ছোট বোনের জন্ম হল । আমি খুব খুশী ছিলাম আমার ছোট বোনকে পেয়ে। 


বাবা প্রায়ই অফিসের কাজে চট্টগ্রাম যেতেন আমিও মাঝে মাঝে তার সংগে যেতাম। বড়ফুপুর বাড়ী দারুল ফজলে রিংকু ভাই এবং হেমা আপু সাথে দিন কাটাতাম। সারাটা পাচঁলাইশ ঘুরে বেড়াতাম । পেছনে মেডিকেল কলেজে পাহাড় ছিল আমাদের বিকালে খেলার সঙ্গী। সেবার ঢাকার ফেরার সময় বাসে শুনেছিলাম চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে তৎকালানী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মেরে ফেলা হয়েছে। 


দাদু চলে যাওয়ার পর আমাদের বাড়ীতে টুটুল ফুপু থাকতেন। তখন সেখানে ডাকাতি হয়েছিল। আবার আমরা গোপিবাগ ফিরে এলাম। শ্যামলীতে রেখে এলাম দু'বছরের সুখ স্মৃতি, কিছু প্রিয় বন্ধু বিপুল, তানিম। আবার, ভর্তি হলাম ফুল কুঁড়ি স্কুলে একবছর পড়ে চলে গেলাম মতিঝিল মডেল হাই স্কুলে।   





২৫ জুলাই, ২০১২
--------------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজক্টে ৪১/৩৬৫