আমার একান্ত কিছু শব্দের মানুষগুলো

আমার একান্ত কিছু অনুভূতি আমার কলমের সাথে ভাব জমায় আমি তাদের সাথে পথ পাড়ি দেই একাকী

Saturday, June 30, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি - ১৬

আজ বহুদিন পর ঢাকা চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গেলাম গ্রাসহপার্স ফটোগ্রাফি গ্রুপের সাথে । ছেলেবেলায় গিয়েছিলাম সুস্পষ্ট মনে নেই কত বছর আগে। তবে আনুমানিক ১৮ বছর আগে। তাই সব স্মৃতি ভুলে বসে আছি। আজ নতুন করে সব কিছু চিনলাম অন্যরকম ভালো লাগছিল। 


বাবা একবার শ্রীমঙ্গল চা বাগান থেকে ফেরার পথে কয়েকজনকে একটা অজগর সাপ মারতে উদ্যত হতে দেখেছিলেন তখন রাস্তায় গাড়ী তাদের হাত থেকে অজগর সাপটিকে রক্ষা করেন, অজগরটিকে বাবা পড়ে একটা বাক্সতে করে ঢাকা নিয়ে এসেছিলেন। সেটি আমাদের বাসায় দু’দিন ছিল। আমি ছোটবেলাতে খুব উচ্ছাসিত ছিলাম এ নতুন অতিথি নিয়ে। আমার মা দু’রাত সাপের দুশ্চিন্তাতে ঘুমাতে পারেন নি। অবশেষে সিদ্ধান্ত এই সাপ চিড়িয়াখানাতে রেখে দিয়ে আসা হবে। আমি প্রচন্ড মন খারাপ করেছিলাম।


আজ আমি সেই সাপটাকে দেখে আসলাম। ঠিক নিশ্চিত হতে পারি নি এইটা আমার ছোটবেলাকার অজগর সাপ কিনা তবে খাঁচাটা নিশ্চিত হতে পেরেছি। যদি সেই অজগর সাপটা মরে না থাকে তাহলে সেটাই আমাদের বাড়ীর সেই ক্ষনিকের অতিথি।


৩০ই জুন, ২০১২
---------------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজেক্ট ১৬/৩৬৫

Friday, June 29, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি - ১৫


আজ সকালে আমার চুনতি গ্রামের গর্ব করার মতন খবর প্রথম আলোতে পড়ে এত উল্লাসিত ছিলাম, নিমেষের ভিতরে আমি ভুলে গেছি ক’দিনের মন খারাপের দিনগুলো। আমার গ্রামের বাড়ী চুনতি, ডেপুটি বাড়ি, ছোট একটা গ্রাম যেখানে, সবুজ পাহাড়ে ঘেরা বনাঞ্চল। ছোটবেলা থেকে নানাভাইয়ের কাছে নানাভাই ও দাদাভাইয়ের চুনতির গল্প শুনতাম, প্রায়ই আমাদের গ্রামে বাঘ আক্রমন করত তখন উনারা প্রায়ই বাঘের হাত থেকে সাধারন মানুষকে রক্ষা করতে এগিয়ে যেতেন। উনাদের পিতামহ সেখানে বনায়ন প্রকল্প শুরু করেছিলেন বহু আগে। বাবা-চাচারা বিমর্ষ ছিলেন তাদেরে পূর্বপুরুষের বনাঞ্চল নাকি উজার হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাবছিলাম আজ হোক কাল হোক এটার ‍উপর একটা প্রতিবেদন করে সবাইকে জানিয়ে দিব। কিন্তু তার আগেই সেখান গ্রামবাসী নিজেদের রক্ষা সবাই এগিয়ে এলেন। আমি খুবই উল্লাসিত ও গর্বিত। যেসব পশু পাখীরা অসাধু শিকারীদের ভয়ে আমাদের গ্রাম ছেড়ে চলে গেছিল তারা আবার ফিরতে শুরু করেছে। আমি খুব ব্যস্ততার কারনে হুট করে সেখানে যেতে পারি না। কিন্তু আমার মন সব সময় সেখানে থাকে। আমি ফটোগ্রাফির নেশার কারনে বাংলাদেশের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়াই কিন্তু আমার চুনতি গ্রাম সেইভাবে কখনো যাই নি। এই প্রসংগে আমি রবি ঠাকুরের কবিতার ক’টি লাইনে নিজের ভিতরে আমি চুনতিকে খুঁজে পাই,

বহুদিন ধরে, বহুক্রোশ দূরে
বহুবার করে, বহুদেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা, দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের ওপর একটা শিশির বিন্দু।

আমি খুবই শীঘ্রই যাচ্ছি আমার শিকড়ের সন্ধানে বেশ জোরেসোড়ে। আমার উপর চুনতির অনেক অভিমান জমেছে। সেজন্য, আজ আমি প্রচন্ডরকম অনুভব করছি নিজের ভিতরে আমার ফেলে আসা শিকড়ের কান্না।

প্রথম আলোতে প্রকাশিত আমার গ্রাম চুনতির আজকের খবর:
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-06-29/news/269563

২৯ই জুন, ২০১২
------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজেক্ট ১৫/৩৬৫

ভালোবাসায় সিক্ত চুনতির গাছগাছালি-পাখপাখালি - প্রথম আলো

ভালোবাসায় সিক্ত চুনতির গাছগাছালি-পাখপাখালি - প্রথম আলো

Thursday, June 28, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি - ১৪

আমার জীবনের একেকটা পর্ব ১-১০, ১০-২০ ইত্যাদি এভাবে যদি প্রতি দশ বছর অন্তঃর অন্তঃর হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় পর্বের মাঝামাঝির দিকে ১৪ কিংবা ১৫ বয়স সেই সময় প্রচন্ড ব্যান্ড সঙ্গীত এবং বই পড়ার নেশা ছিল। তখন ফুনাই ভিসিপির বদৌলতে আমাদের মধ্যবিত্তের মানুষ ঝুঁকে পড়লো উত্তম-সুচিত্রার ভিডিও ক্যাসেটের দিকে এবং কেউবা হিন্দি মুভির দিকে। আমি টিডিকে ক্যাসেট কিনে এলিফেন্ট রোডে রেইনবোতে গিয়ে রেকর্ড করে আনতাম ১২টা ইংরেজী গানের পিছনে সব মিলিয়ে ২০০ টাকা খরচ করার পর বাসার প্রিয় সনি ক্যাসেট প্লেয়ারে ঘর অন্ধকার করে গান শুনতাম। অদ্ভূত আনন্দ অনুভব করতাম। পিঙ্ক ফ্লয়েদ, মেটালিকা, ডেফ লেপার্ড, বন জভি, গানস এন্ড রোজেস আরো অনেকে ছিল। আমাদের সেই সময়কার প্রিয় বন্ধু ছিল আমাদের সেই ক্যাসেট প্লেয়ার। আজ আমি জীবনে চতুর্থ পর্বতে এসে শ’য়ে শ’য়ে গান শুনি নিমেষে বিনামূল্যে কিন্তু কোন গান আমার হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ার সুযোগ পায় না, আমি ভুলে যাই মুহূর্ত এর ভিতরে নতুন কোন গানের আগমনে। অথচ কিনা আজও মনে পড়ে সেই গানগুলোর একটি,

“মনে পড়ে রুবি রায়
তোমাকে কত করে ডেকেছি”। - রাহুল দেব বর্মন

২৮ই জুন, ২০১২
------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজেক্ট ১৪/৩৬৫

অ আ আজকের লেখালেখি - ১৩

“ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসর,
তাই বলে আমায় ভেবো না স্বার্থপর, 
যেখানে যাই তুমি 
আছো মনের ভিতর।” - পার্থ বড়ুয়া


একটা গান শুনছিলাম অফিসের একটা কাজ শেষে ফেরার পথে, ছাত্রজীবনে সেই গানটা খুব একটা মন টানতে পারে নি। আজ প্রচন্ড ভালো লাগলো। কথাগুলো কেমন যেন জীবনের সাথে মিলিয়ে গেছে। 

রাত জাগার সেই পুরানো অভ্যাসটা মার বকুনী কিংবা স্ত্রীর অভিমানেও যায় নি। বই পড়া, গান শোনা, ইন্টারনেটে বসে নতুন কিছু জানার আগ্রহ বাড়ে রাত বাড়ার সাথে সাথে। প্রচন্ড রকম নেশা জমে। আবার সকালে অফিস সারাদিন চলে খাটাখাটনি। বাড়ী ফিরি রাতেই। আবার সেই পুরানো কাজে ফিরে যাই। সারাটা সপ্তাহ জুড়ে চলে কাজের রোলার কোস্টার। ঘুম কমে যাচ্ছে বলে পাল্লা দিয়ে শরীরের সাথে মনের জোরও যাচ্ছে কমে। অল্পতে ক্লান্ত লাগে। মন খিটখিটে হয়ে যায়। অবসর খুঁজি প্রচন্ডভাবে একদম কিচ্ছু না করার ইচ্ছা অনেকদিনের। জানি না সেই অবসরের জন্যে কবর অব্দি
অপেক্ষা করতে হবে কিনা।

২৭ই জুন, ২০১২
------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজেক্ট ১৩/৩৬৫

অ আ আজকের লেখালেখি - ১২

ক’দিন ধরে আমি কোন কিছুতে মন দিতে পারছিনা। যে কোন বিষয়ে আমার একাগ্রতার মাত্রা খুবই হাস্যকর পর্যায়ে আছে। যা করতে চাচ্ছি সেটাতে কোনভাবেই মন দিতে পারছি না। আমার দেহ এক স্থানে মন আরেক স্থানে। বেশ কয়েকবার ভাবলাম এর গ্রহনযোগ্য যুক্তি কি হতে পারে ! অনেক 
ভাবাভাবি শেষে বুঝতে পারলাম, দীর্ঘ বিরতি পর রাঙামাটি সফরে যাওয়ার আমার মন এখনও পাহাড় থেকে ফিরতে পারে নি ওখানেই রয়ে গেছে। হয়ত ফিরবে একদিন কিংবা নাও ফিরতে পারে। আর আমি ততদিন আবার সেই পুরানো পাগলামীতে থেকে যাচ্ছি। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি,
এর জন্যে প্রচন্ড রকম ভুক্তভোগি হতে যাচ্ছে আমার প্রিয় মানুষগুলো। যদিও এ অভিজ্ঞতা তাদের কাছে নতুন নয়।

২৬ই জুন, ২০১২
------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজেক্ট ১২/৩৬৫

Monday, June 25, 2012

অ আ আজকের লেখালেখি - ১১

ইদানিং হুট করে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনা বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে প্রতিদিন স্বপ্ন দেখা। বয়সটা মনে হয় সামনে দিকে দ্রুততায় দৌড়াচ্ছে যার কারনে রোজ কাউকে না কাউকে স্বপ্নতে পেয়ে যাচ্ছি, যারা এখন অতীত কিন্তু তাদের সাথে ছিল আমার রঙীন দিনগুলো। আমি আমার জীবনের রঙ ভাবতে কিংবা খুঁজতে গিয়ে দেখি আমার অতীতের রং ছিল রঙীন, কিন্তু বর্তমানের রঙ একদম সাদাকালো। হয়ত আমার মনের ভিতরের পৃথিবীটার একটা পুরো অংশ জৌলুস হারিয়ে যাচ্ছে বলেই আমি সাদাকালোর বাইরে অন্য কোন রঙ খুঁজে পাচ্ছি না।

২৫ই জুন, ২০১২
------------------------------------------------------------------------
লেখালেখি ৩৬৫ প্রজেক্ট ১১/৩৬৫